শেষ ট্রেনের রহস্য
পর্ব ১ — শেষ ট্রেন
রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা শেষ ট্রেনটির চারপাশে অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এসেছিল। শহরের অন্য সব শব্দ যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছিল।
রায়হান ঘড়ির দিকে তাকাল। ট্রেন ছাড়তে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। এত রাতে স্টেশনে খুব বেশি মানুষ ছিল না। কয়েকজন যাত্রী নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
হঠাৎ প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্ত থেকে একটি অদ্ভুত শব্দ ভেসে এলো। মনে হলো কেউ যেন ধাতব দরজায় ধীরে ধীরে আঘাত করছে।
রায়হান শব্দটির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল। তারপর আবার নিজের সিটের কাছে ফিরে গেল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর একই শব্দ আবার শোনা গেল। এবার আগের চেয়ে স্পষ্ট।
সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে গেল। দূরে একটি মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। লোকটির হাতে একটি পুরোনো কালো ব্যাগ।
ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল। আর ঠিক তখনই সেই লোকটি হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।
পর্ব ২ — অচেনা যাত্রী
ট্রেন ধীরে ধীরে স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করল। রায়হান নিজের সিটে ফিরে এসে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। কিন্তু তার মাথা থেকে সেই অচেনা লোকটির কথা কিছুতেই যাচ্ছিল না।
কিছুক্ষণ পর পাশের সিটের বৃদ্ধ লোকটি নিচু গলায় বললেন, “আপনি কি লোকটাকে দেখেছিলেন?”
রায়হান চমকে তাকাল। “কোন লোক?”
বৃদ্ধ লোকটি উত্তর দিলেন, “কালো ব্যাগ হাতে যে লোকটা প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল।”
রায়হান এবার বুঝতে পারল, সে একাই লোকটিকে দেখেনি। বৃদ্ধ লোকটিও তাকে দেখেছেন।
“আপনি তাকে চেনেন?” রায়হান প্রশ্ন করল।
বৃদ্ধ লোকটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “চিনি না। কিন্তু এই ট্রেনে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে একই সময় তাকে দেখা যায়।”
“তাহলে ব্যাপারটা কী?”
বৃদ্ধ লোকটি জানালার বাইরে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললেন, “সমস্যা হলো... আজ বৃহস্পতিবার নয়।”
পর্ব ৩ — সত্যিটা কোথায়?
রায়হানের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। সে মোবাইল বের করে তারিখ দেখল। বৃদ্ধ লোকটি ঠিকই বলেছেন।
আজ ছিল বুধবার।
ট্রেন তখন শহর থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। চারপাশের জানালায় শুধু অন্ধকার আর মাঝে মাঝে দূরের কোনো গ্রামের আলো দেখা যাচ্ছিল।
হঠাৎ ট্রেনের ভেতরের আলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিভে গেল।
আলো ফিরে আসার পর রায়হান দেখল, সামনের সিটের ওপর একটি কালো ব্যাগ পড়ে আছে।
ঠিক সেই ব্যাগ।
বৃদ্ধ লোকটি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর মুখের রং বদলে গেছে।
তিনি শুধু বললেন, “ব্যাগটা খুলবেন না।”
রায়হান ব্যাগটির দিকে তাকিয়ে রইল। বাইরে তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ট্রেনের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা আছড়ে পড়ছে, আর সেই শব্দের মাঝেও তার মনে হচ্ছিল—ব্যাগের ভেতর থেকে যেন কেউ খুব আস্তে আস্তে দরজায় আঘাত করছে।
এই গল্পটি শুধুমাত্র ডেমো ও থিমের বিভিন্ন ফিচার পরীক্ষা করার জন্য তৈরি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন